নেটওয়ার্কিং কি?

বর্তমান যুগকে বলা হয় তথ্য প্রযুক্তির যুগ,এর একমাত্র কারন হল ইন্টারনেট এর ব্যপক বিস্তৃতি! এখন সবার হাতে হাতে মোবাইল! এই মোবাইল, ইন্টারনেট এর মাধ্যমে আমরা দেশ - বিদেশের মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারছি সহজেই। এই তথ্য আদান প্রদান কেই মূলত সহজ ভাষায় বলা হয় নেটওয়ার্কিং। নেটওয়ার্কিং এর জন্য অব্যশই দুটি কম্পিউটার অথবা দুটি ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস লাগবে।
📩 নেটওয়ার্কিং কেন প্রয়োজন?
=> তথ্য আদান প্রদান এর জন্য
=> হার্ডওয়্যার রিসোর্স শেয়ার করার জন্য।
=> সফটওয়্যার রিসোর্স শেয়ার করার জন্য।
=> ইমেইল,এসএমএস আদান প্রদান।
মূলত নেটওয়ার্কিং কেন প্রয়োজন সেটা নিয়ে লিখলে শেষ করা যাবে না।
📩 নেটওয়ার্কিং কয় প্রকার?
=> নেটওয়ার্কিং সাধারণত তিন প্রকার। যথাঃ-
°LAN
°MAN
°WAN
এই তিনটি নেটওয়ার্ক সম্পর্কে এখন বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করবো।
Local Area Network (LAN): সাধারণত একই বিল্ডিং এর মধ্যে বেশ কিছু কম্পিউটার তথ্য আদান প্রদান করলে সেটিকেই বলা হয় লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্ক এর ডাটা ট্রান্সফার স্পিড ভাল থাকে,১০ এম্বিপিএস এর কাছাকাছি। এই নেটওয়ার্ক এ ব্যবহৃত ডিভাইস গুলো হল হাব,রিপিটার, মডেম ইত্যাদি।
Metropolitan Area Network (MAN): একই শহরের মধ্যে অবস্থিত কয়েকটি ল্যানের মাধ্যমে গঠিত ইন্টারফেসকে বলা হয় মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক। এ ধরনের নেটওয়ার্ক ৫০-৭০ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে থাকে। ব্যবহৃত ডিভাইস হল রাউটার, সুইচ, মাইক্রোওয়েব এন্টেনা ইত্যাদি।
Wide Area Network (WAN): দূরবর্তী ল্যান গুলোকে নিয়ে গঠিত নেটওয়ার্ককে বলা হয় ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক। এতে সাধারণত ডাটা ট্রান্সফার স্পিড খুব কম থাকে, এর ডাটা ট্রান্সফার স্পিড এর রেঞ্জ 50 কেবিপিএস- ১.৫ এম্বিপিএস।এখন অবশ্য এর গতি বাড়ানোর জন্য কাজ চলছে।
📩 এখন আমরা জানবো টপোলজি সম্পর্কে।টপোলজি কি?
=> একটা নেটওয়ার্ক এ কম্পিউটার গুলি কিভাবে সংযুক্ত রয়েছে সেটার ক্যাটালগ হল টপোলজি! নেটওয়ার্ক ডিভাইস এর ক্ষেত্রে টপোলজি বিশেষ ভুমিকা রাখে।টপোলজি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে,মূলত চার প্রকার। যথাঃ-
°Mesh Topology
°Star Topology
°Ring Topology
°Bus Topology
উপরের টপোলজি নিয়ে বিস্তারিত কিছু লিখতে পারছি নাহ এগুলার স্টাকচার না দেখলে বুঝতে কস্ট হবে আপনাদের। তাই এগুলার স্ট্রাকচার আপনারা গুগল থেকে দেখে নিবেন, আশা করি দেখলেই বুঝতে পারবেন । তবে এগুলোর বেশ কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা রয়েছে সেগুলো ২ টি করে বলার চেষ্টা করবো।
Mesh Topology :
সুবিধাঃ
১.কোন কম্পিউটার নস্ট হলেও সমগ্র সিস্টেম এর কোন প্রব্লেম হয় নাহ।
২.বিশাল এরিয়াকে নেটওয়ার্ক এর আওতায় আনা যায়।
অসুবিধাঃ
১.এটির সংযোগ অগোছালো এবং জটিল।
২.ডাটা ট্রান্সফার গতি কম।
Star Topology :
সুবিধাঃ
১.সহজেই অনেক কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এ সংযুক্তকরা যায়। তবে এটি নির্ভর করে হাব এর পোর্ট সংখ্যার উপর।
২. নেটওয়ার্ক এর কোন কম্পিউটার নস্ট হলেও সিস্টেম এর কিছু হয় না।
অসুবিধাঃ
১.হাব নস্ট হলে পুরো সিস্টেম শেষ।
২.গোপনীয়তা কম।
Ring Topology :
সুবিধাঃ
১.কোন স্টেশন পুরো নেটওয়ার্ক এ আধিপত্য চালাতে পারে না।প্রতিটি স্টেশন সমান অধিকার পায়।
২.এর সংযোগ খুবই সহজ।
অসুবিধাঃ
১.একটি স্টেশন অচল হলে পুরো সিস্টেম অচল হয়ে যায়।
২.ডেটার গোপনীয়তা কম।
Bus topology :
সুবিধাঃ
১.একটা মাত্র ফিজিকাল লাইন ব্যবহারক করে ডাটা ট্রান্সফার করা যায়।
২.একটি কম্পিউটার নস্ট হলেও অন্য কম্পিউটার কাজ স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে।
অসুবিধাঃ
১.ফিজিকাল লাইন নস্ট হলে সমস্ত সিস্টেম অকেজো হয়ে পড়ে।
২.ডেটা আদান প্রদান এ স্লো হয়।
📩 এগুলা ছাড়াও আরো দুটি টপোলজি রয়েছে,সেগুলো হল ট্রি টপোলজি এবং হাইব্রিড টপোলজি!
=> Tree Topology: এখানে কম্পিউটার গুলো পরস্পরের সাথে শাখা প্রশাখা হিসাবে বিন্যস্ত থাকে।আর এই টপোলজি দেখতে ট্রি এর মত তাই এটিকে ট্রি ট্রপোলজি বলে।গুগল এ এর স্ট্রাকচার দেখে নিবেন।
সুবিধাঃ শাখা প্রশাখার মাধ্যমে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ সুবিধাজনক।অফিস ব্যবস্থাপনার জন্য এই নেটওয়ার্ক বেশি প্রয়োজনীয়।
অসুবিধাঃ মূল কম্পিউটার নষ্ট হয়ে গেলো পুরো সিস্টেম অচল হয়ে যায়। এর ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া জটিল।
Hybrid Topology : বিভিন্ন টপোলজি যেমন স্টার,রিং বাস ইত্যাদি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যে নেটওয়ার্ক গঠিত হয় তাকে হাইব্রিড টপোলজি বলে।
সুবিধাঃ নেটওয়ার্ক এর সমস্যা নির্ণয় করা সহজ।প্রয়োজন অনুযায়ী নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করা যায়।
অসুবিধাঃ কোন এক অংশ নষ্ট হলে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক নষ্ট নাহ হয়ে অংশবিশেষ নষ্ট হয়ে যায়। হাব সবসময় সচল রাখতে হয়।
Reviewed by Boniyeamin laju
on
October 01, 2020
Rating:

No comments: